সন্ত্রাস দমনে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
সন্ত্রাস দমনে সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশকে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র বিভাগের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী সচিব নিশা দেশাই বিসওয়াল এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার ঢাকা সফরে এসেছেন নিশা দেশাই। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সে সময় এ আগ্রহের কথা জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী সচিব নিশা দেশাই বিসওয়াল এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর উপসহকারী সচিব মনপ্রীত আনন্দ রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেন।
দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিশা বিসওয়াল বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি এবং আহত ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বাংলাদেশি অংশীদারদের শোকের ভাগ নিয়েছি। বাংলাদেশের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।’
দূতাবাস জানায়, নিশা বিসওয়াল সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের যে বৈশ্বিক হুমকি তা মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রসচিব নিশা দেশাই দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। আজ সকালে তিনি আমাদের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং এ সময়ে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কিভাবে এ সমস্যার উত্তরণ ঘটানো যায় সে ব্যাপারে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’
পররাষ্ট্রসচিব জানান, নিশা দেশাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার যৌথ তদন্ত ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানবিষয়ক আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব আরো বলেন, ‘কারিগরি সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। তাঁদের বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশকে সাহায্য করে যাচ্ছে। সে বিষয়ে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌথ অভিযানের মতো কোনো বিষয় আলোচনায় আসেনি।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত সপ্তাহে টেলিফোন আলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গুলশান হামলার তদন্তে এফবিআইয়ের সহযোগিতার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন সে আলোচনায় অগ্রগতি আছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘তাঁরা বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। সেটি নিয়েই আলোচনা আজ শুরু হলো। কারিগরি সহযোগিতার আওতায় কিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, বিভিন্ন পন্থা বের করা যায় সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
গুলশানে হামলার ঘটনার তদন্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দল আসছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।’ বিদেশি সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো দেশ সহযোগিতা করতে চাইলে সে ব্যাপারে স্বভাবতই আমাদের সম্মতি আছে। এখন যা দরকার তা হলো সহযোগিতার পদ্ধতি বের করা।’
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ দিকে নিশা বিসওয়ালের ঢাকায় আসার কথা ছিল। গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সফর এগিয়ে আনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিশা বিসওয়াল সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় এসেছেন।
নিশা-শ্রিংলা বৈঠক : এদিকে নিশা দেশাই বিসওয়াল গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জানা গেছে, নিশা বিসওয়ালের অনুরোধে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বাসায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সমর্থন দিতে আগ্রহী। ভারতও বাংলাদেশ সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ভারত মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও এমন অবস্থান নেওয়া উচিত। ভারতীয় হাইকমিশনার গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী উদ্যোগকে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে নিশা বিসওয়াল ঢাকা সফরের সময়ও হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানেও এ দেশে উগ্রবাদ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবিলা ইস্যুতে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একই অবস্থানে আছে। তবে একই অবস্থানের অর্থ যৌথভাবে সন্ত্রাস মোকাবিলা নয়—এমন আভাস দিয়েছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।
আজ সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিশার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। আজই তিনি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

0 comments: