লেখা:Farhana Mehegh
-------
উফ,এত বৃষ্টি.. আর ভাল লাগে না।কলেজে আসার পর থেকে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।বাড়িতে যেতে হবে আজ তাড়াতাড়ি ,কিন্ত তাও হবে না মনে হয়,কেননা বৃষ্টি হচ্ছে খুব।খুব রাগ হচ্ছে এখন।
হুট করেই কে যেনো ডাকছে জোরে জোরে,,,এই স্নিগ্ধা শুন,,এই স্নিগ্ধা শুন,,।
আমি তো অবাক,,এই সময় এভাবে কে ডাকছে..?পেছনে ফিরে তাকাই,,দেখি সিয়াম।
বৃষ্টিতে অনেক খানি ভিজে গেছে,,,চুল গুলো হাত দিয়ে নাড়তে নাড়তে এলো আমার কাছে,,,এসেই বলে উঠল,,,
---কি করিস,কেমন আছিস..?(সিয়াম)
----ভাল নাই,রাগ হচ্ছে,আর তুই এভাবে ডাকছিলি কেনো..?কেউ এভাবে ডাকে.?মেনার শিখিস নাই.?(স্নিগ্ধা)
---হা হা হা,পাগলী একটা।এত রাগ করিস কেনো..?
---চুপ কর,এখন বল,ডাকলি কেনো..?
---স্যার যে পড়াটা কাল পড়িয়েছিলো আমাকে একটু বুঝিয়ে দিবি..? আমি তো কাল ক্লাস টা মিস করেছি।
----ভালো করছিস,যা তোকে বুঝাবো না,,আরো বাইক নিয়ে ঘুরে আয় বন্ধুদের সাথে কাজে দেবে।
---তুই এমন করিস কেনো..? দে না একটু বুঝিয়ে,,,
---আচ্ছা ঠিক আছে,নেক্সট টাইম থেকে ক্লাস মিস করবি না,,যদি করিস তবে তোকে আর পড়া বুঝিয়ে দিবো না।মাইন্ড ইট।
---ওকে মেডাম,এখন আয়।
---ওকে চল সেমিনারে।
:
সিয়াম আমার খুব ভাল বন্ধু,কলেজ থেকেই আমাদের পরিচয়।সে খুব রসিক টাইপের একটা ছেলে।দুষ্টু ও বটে। আমরা ২ জন ই ইংরেজি বিভাগের স্টুডেন্ট ছিলাম।সর্বদা আমার সাথে লেগেই থাকত সে,,খালি রাগাতো আমাকে।আমাকে রাগাতে নাকি ভালো লাগে তার,।আমরা ২ জন বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম,যত রাগাক না কেনো আমাকে,,একটু পর রাগ আপনা আপনি ই চলে যেত, তার সাথে আমি রাগ করে থাকতে পারি না বেশিক্ষণ,,
:
যাই হোক,গেলাম সেমিনারে,,,২জন ই বসলাম,বই খুলে সিয়াম কে পড়া বুঝাতে আরম্ভ করলাম।এটা ছিলো একটা রোমান্টিক গল্প।ইংরেজি সাহিত্যে অধিকাংশ গল্প ও কবিতা ই রোমান্টিক টাইপের হয়।তাকে গল্প পড়াচ্ছি হটাৎ একটি লাইনে পড়ে লজ্জা লাগছে।কেননা আমি আবার রোমান্টিক কথা বার্তা কারো সাথে বলি না,লজ্জা পাই।লাইন টা এড়িয়ে আমি পুরোটা গল্প শেষ করলাম।
গল্প বুঝানো শেষ,এখন আমি বললাম, কি হলো সিয়াম বুঝলি তো গল্প টা..?
সিয়াম বলল, আরো ভালো বুঝতাম যদি তুই লাস্টের ২ টা লাইন প্র্যাক্টিক্যালি বুঝাতি।
:
---শয়তান,তুই আস্ত একটা শয়তান(স্নিগ্ধা)
---হু শয়তানের কি হলো..? পড়া ই তো বুঝাতে বলছি..!(সিয়াম)
----চুপ কর,দূর হ বলছি,,,যতটুকু বলেছি ততটুকু ই যথেষ্ট, আর বুঝতে হবে না,গেলাম আমি।
----আরে কই যাস..? যাস না,একটু ওয়েট কর,স্যার কে খাতা টা দিয়ে আসি তারপর একসাথে যাবো বাড়িতে দুইজন।
----ওহ আচ্ছা যা, তাড়াতাড়ি আসবি কিন্ত।
---হুম আচ্ছা।আর হুম,এই চিরকুট টা রাখ তোর কাছে।আমি যখন তোর কাছ থেকে দূরে থাকিবো,সেদিন এটা খুলবি।
----দূরে থাকবি কেনো.?
----আরে বাবা,আমি ২ দিন পর তো ঢাকা চলে যাব, তখন তো তোর কাছ থেকে দূরে থাকব,তো অই দিন ই খুলবি চিঠি টা।
---আচ্ছা যা এখন।
:
বসে আছি সেই কখন থেকেই বাট সিয়ামের দেখা নাই,,কেমন লাগে..? এমনি আজ অনেক লেট হলো বাড়িতে যেতে পারিনি।এবার উঠেই পড়লাম,একটু এগিয়ে দেখি সিয়াম কথা বলছে স্যারের সাথে।
আমি ভেতরে গেলাম,তারপর কানে কানে বললাম, থাক তুই,আমি যাই। টাটা।
এই বলে চলে এলাম স্যারের রুম থেকে।
সাথে সাথেই সিয়াম ও এলো।
হুট করেই আমার চুলে টান দিলো।মেজাজ গেলো আরো বিগড়ে।তারপর জিজ্ঞেস করলাম,,
:
--তুই এটা কি করলি..? চুলে টান দিলি কেনো..?(স্নিগ্ধা)
--এখন থেকে রোজ করবো(সিয়াম)
--দূর হ বলছি,কথা নাই তোর সাথে। টাটা।
ব্যাগ টা হাতে নিয়েই সামনে অগ্রসর হলাম,সেই মুহূর্তে সিয়াম বলছে,,
---আচ্ছা তুই এত রাগ করিস কেনো আমার সাথে..?(সিয়াম)
---তো কি করবো.?? রাগ করার মত কাজ করিস কেনো..?তুই আমার চুল এ টান দিলি কেনো.? জানিস না চুলে ধরা আমার একদম পছন্দ না(স্নিগ্ধা)
--আচ্ছা কাল থেকে আমার লাইটার টা সাথে রাখব
--কেনো..?
---তোর চুলে আগুন ধরিয়ে দিবো।
:
এটা শুনে মেজাজ আরো খারাপ হলো,হনহন করে গেইটের কাছে পৌছালাম।হটাৎ পেছনে ফিরি,দেখি সিয়াম নেই।কই যে গেলো ছেলে টা,ভাবছি।নাহ,ক্লাসে যাই আবার,দেখে আসি সে কই।
সিঁড়িতে পা রাখলাম,সামনে যেতে না যেতেই সিঁড়িতে ধাক্কা খেলাম। এমন সময় দেখলাম সিয়াম মেঝেতে পড়ে আছে, আমি তো হতবাক হয়ে গেলাম,দ্রুত তার কাছে গেলাম,,,তার মাথা টা আমার কোলে রেখে বার বার ডাকছি তাকে,,কিন্ত সে কোনো আন্সার দিচ্ছে না।আমি প্রায় কান্না করছি,,আমার কান্না শুনে আশে পাশের কিছু শিক্ষার্থী আসল।তাদের সাহায্যে আমি সিয়াম কে হাসপাতাল নিতে সক্ষম হই।
:
কতক্ষন ধরে ওয়েট করছি বাট ডাক্তার আসছে না,,এই ফাঁকে সিয়ামের বাবা,মা কে আমরা খবর দেই,আমার সাথে আরো কিছু ফ্রেন্ড ছিলো।সিয়ামের বাবা মা এসেছিলো আর বলতে লাগল,কাল ই তো ঢাকা যাওয়ার কথা ছিলো,,সিয়াম কে ঢাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা ছিলো।
কথা গুলো আমি আড়াল থেকে শুনেছি,বাট বুঝে উঠিতে পারিনি সিয়াম কে হাসপাতাল কেনো ভর্তি করাবে।
কিছুক্ষন পর ডাক্তার এলো,,ডাক্তারের ফেইস টা কেমন জানি হয়ে আছে।মন খারাপ মে বি।
আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম সিয়াম কেমন আছে.?? তিনি কিছুই বলল না,,আবার জিজ্ঞেস করার পর বলছে,, সরি।
আমি বললাম মানে..?
ডাক্তার বলল,ছেলেটা বেঁচে নেই,,ব্রেণ স্ট্রোক করেছে। তাকে বাঁচাতে পারিনি।
কথা টা শুনার পর আমি ভেঙে পড়লাম খুব,কান্না আসছিলো খুব,নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি আর,,সবার সামনেই কান্না করছি,,খুব কষ্ট হচ্ছিলো।
:
প্রায় ৬ মাস হয়ে গেলো,কলেজে যাই না।সিয়াম চলে যাবার পর থেকে আর কলেজে পা রাখিনি।হটাৎ একদিন স্যার ফোন দিয়ে বলল,কলেজে যেতে, তা না হলে মার্কস কমিয়ে দিবে এক্সামে।
তাই ওই দিন কলেজে পা রাখলাম,,প্রায় ৬ মাস পর কলেজে আসলাম,চারদিক আগের মতই,,সব কিছুই আগের মত,কিন্ত তারপরেও যেনো কি নাই,,খুব খালি খালি লাগছে।ক্লাসের দিকে গেলাম,স্যার দেখে তো মহা খুশি,স্যারের সাথে দেখা করে সেমিনারে বসলাম,খুব বৃষ্টি হচ্ছে,,,ব্যাগ টা খুলে বইটা হাতে নিলাম,বইয়ের ভেতর একটি চিরকুট ছিলো,,আরে হ্যা এটা তো সিয়াম দিয়েছিলো বাট আজ অবধি এটা পড়া হয়নি।চিঠি টা নিয়ে জানালার পাশে গেলাম,তারপর খুললাম।প্রথমেই লিখা ছিলো,
:
প্রিয় সিগ্ধা,
জানিস তোর সাথে চলতে চলতে কখন যে নিজের অজান্তে তোকে ভালোবেসে ফেলেছি বুঝেই উঠতে পারেনি।
আচ্ছা তোর কি ঐ দিনটার কথা মনে আছে যেখানে আমাদের প্রথম পরিচয় হয়..?
কলেজ ক্যান্টিনে তুই একটি নীল জামা পড়ে গিয়েছিলি, দেখতে এক বারে 'রূপকথার সম্রাজ্ঞীর মত লাগছিলো, তারপর কফি অর্ডার দিতে একটু ভুল বুঝা বুঝি!
সেইখান থেকেই পরিচয় তারপর আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব।
প্রতিটা সময় তোকে বলতে চেয়েছি যে আমি তোকে ভালোবাসি কিন্তু ভয়ে ছিলাম যদি বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়ে যায় যদি..?আমায় ভুল বুঝে চলে যাস যদি..?
আমি যত দিন পৃথিবীতে থাকব ছায়ার মত তোর পাশে থাকতে চেয়েছিলাম।
জানিস আজ কাল না আমার কিছুই ঠিক যাচ্ছে না মাঝে মাঝে মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব হয়।
যে কোনো সময় মারা যেতে পারি। যখন থেকে ডাক্তারের কাছে এই কথা শুনেছি তারপর হতে তোকে আর আমার মনের কথাটা কথাটা বলার সাহস পাইনি কারণ আমার এই অনিশ্চিত জীবনের সাথে তোকে জড়াতে চাইনি।
জানি আজ আমার চিঠিটা পড়ে তোর অনেক অভিমান হচ্ছে আমার উপর।নিয়তি বড়ই নিষ্ঠুর।
জানিস প্রতিটা মুহূর্তে তোকে অনেক মিস করি।
যদি কখনো মনে হয় আমি তকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছি তাহলে বুকে হাত দিয়ে দেখিস মৃদু বাতাস হয়ে তোর নিজের অজান্তেই মন ছোঁয়ে গেছি।
যদি কখনো আমাকে ভেবে একাকিত্ব অনুভব হয়, তাহলে এই আকাশটার দিখে থাকিয়ে দেখিস তারাগুলো আমার হয়ে শুধু তোকেই পাহারা দিচ্ছে।
:
সিয়াম এর এই চিঠিটা পড়ার পর থেকেই মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো।'সিয়াম এর মুখ থেকে একটি বার এর জন্য ভালোবাসি কথা টা শুনার জন্য মনটা চিৎকার করে কেঁদে উঠে।এখনো সিয়াম এর প্রতিটা স্মৃতি খুব যত্ন করে আমার কাছে রেখে দিয়েছি।এই ছিলো সেই ছেলেটা যে পুরোটা ডিপার্টমেন্ট গরম রাখত আড্ডা,কথা,দুষ্টুমি করে,,সে আজ নেই,আমাকে রাগাবার ও কেউ নেই আজ,কেউ নেই আমাকে হাসাবার।আজ তার সাথে কাটানো সেই স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ছে,,,,আর পরোক্ষনেই আমার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে এলো.....!!!
-------
উফ,এত বৃষ্টি.. আর ভাল লাগে না।কলেজে আসার পর থেকে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।বাড়িতে যেতে হবে আজ তাড়াতাড়ি ,কিন্ত তাও হবে না মনে হয়,কেননা বৃষ্টি হচ্ছে খুব।খুব রাগ হচ্ছে এখন।হুট করেই কে যেনো ডাকছে জোরে জোরে,,,এই স্নিগ্ধা শুন,,এই স্নিগ্ধা শুন,,।
আমি তো অবাক,,এই সময় এভাবে কে ডাকছে..?পেছনে ফিরে তাকাই,,দেখি সিয়াম।
বৃষ্টিতে অনেক খানি ভিজে গেছে,,,চুল গুলো হাত দিয়ে নাড়তে নাড়তে এলো আমার কাছে,,,এসেই বলে উঠল,,,
---কি করিস,কেমন আছিস..?(সিয়াম)
----ভাল নাই,রাগ হচ্ছে,আর তুই এভাবে ডাকছিলি কেনো..?কেউ এভাবে ডাকে.?মেনার শিখিস নাই.?(স্নিগ্ধা)
---হা হা হা,পাগলী একটা।এত রাগ করিস কেনো..?
---চুপ কর,এখন বল,ডাকলি কেনো..?
---স্যার যে পড়াটা কাল পড়িয়েছিলো আমাকে একটু বুঝিয়ে দিবি..? আমি তো কাল ক্লাস টা মিস করেছি।
----ভালো করছিস,যা তোকে বুঝাবো না,,আরো বাইক নিয়ে ঘুরে আয় বন্ধুদের সাথে কাজে দেবে।
---তুই এমন করিস কেনো..? দে না একটু বুঝিয়ে,,,
---আচ্ছা ঠিক আছে,নেক্সট টাইম থেকে ক্লাস মিস করবি না,,যদি করিস তবে তোকে আর পড়া বুঝিয়ে দিবো না।মাইন্ড ইট।
---ওকে মেডাম,এখন আয়।
---ওকে চল সেমিনারে।
:
সিয়াম আমার খুব ভাল বন্ধু,কলেজ থেকেই আমাদের পরিচয়।সে খুব রসিক টাইপের একটা ছেলে।দুষ্টু ও বটে। আমরা ২ জন ই ইংরেজি বিভাগের স্টুডেন্ট ছিলাম।সর্বদা আমার সাথে লেগেই থাকত সে,,খালি রাগাতো আমাকে।আমাকে রাগাতে নাকি ভালো লাগে তার,।আমরা ২ জন বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম,যত রাগাক না কেনো আমাকে,,একটু পর রাগ আপনা আপনি ই চলে যেত, তার সাথে আমি রাগ করে থাকতে পারি না বেশিক্ষণ,,
:
যাই হোক,গেলাম সেমিনারে,,,২জন ই বসলাম,বই খুলে সিয়াম কে পড়া বুঝাতে আরম্ভ করলাম।এটা ছিলো একটা রোমান্টিক গল্প।ইংরেজি সাহিত্যে অধিকাংশ গল্প ও কবিতা ই রোমান্টিক টাইপের হয়।তাকে গল্প পড়াচ্ছি হটাৎ একটি লাইনে পড়ে লজ্জা লাগছে।কেননা আমি আবার রোমান্টিক কথা বার্তা কারো সাথে বলি না,লজ্জা পাই।লাইন টা এড়িয়ে আমি পুরোটা গল্প শেষ করলাম।
গল্প বুঝানো শেষ,এখন আমি বললাম, কি হলো সিয়াম বুঝলি তো গল্প টা..?
সিয়াম বলল, আরো ভালো বুঝতাম যদি তুই লাস্টের ২ টা লাইন প্র্যাক্টিক্যালি বুঝাতি।
:
---শয়তান,তুই আস্ত একটা শয়তান(স্নিগ্ধা)
---হু শয়তানের কি হলো..? পড়া ই তো বুঝাতে বলছি..!(সিয়াম)
----চুপ কর,দূর হ বলছি,,,যতটুকু বলেছি ততটুকু ই যথেষ্ট, আর বুঝতে হবে না,গেলাম আমি।
----আরে কই যাস..? যাস না,একটু ওয়েট কর,স্যার কে খাতা টা দিয়ে আসি তারপর একসাথে যাবো বাড়িতে দুইজন।
----ওহ আচ্ছা যা, তাড়াতাড়ি আসবি কিন্ত।
---হুম আচ্ছা।আর হুম,এই চিরকুট টা রাখ তোর কাছে।আমি যখন তোর কাছ থেকে দূরে থাকিবো,সেদিন এটা খুলবি।
----দূরে থাকবি কেনো.?
----আরে বাবা,আমি ২ দিন পর তো ঢাকা চলে যাব, তখন তো তোর কাছ থেকে দূরে থাকব,তো অই দিন ই খুলবি চিঠি টা।
---আচ্ছা যা এখন।
:
বসে আছি সেই কখন থেকেই বাট সিয়ামের দেখা নাই,,কেমন লাগে..? এমনি আজ অনেক লেট হলো বাড়িতে যেতে পারিনি।এবার উঠেই পড়লাম,একটু এগিয়ে দেখি সিয়াম কথা বলছে স্যারের সাথে।
আমি ভেতরে গেলাম,তারপর কানে কানে বললাম, থাক তুই,আমি যাই। টাটা।
এই বলে চলে এলাম স্যারের রুম থেকে।
সাথে সাথেই সিয়াম ও এলো।
হুট করেই আমার চুলে টান দিলো।মেজাজ গেলো আরো বিগড়ে।তারপর জিজ্ঞেস করলাম,,
:
--তুই এটা কি করলি..? চুলে টান দিলি কেনো..?(স্নিগ্ধা)
--এখন থেকে রোজ করবো(সিয়াম)
--দূর হ বলছি,কথা নাই তোর সাথে। টাটা।
ব্যাগ টা হাতে নিয়েই সামনে অগ্রসর হলাম,সেই মুহূর্তে সিয়াম বলছে,,
---আচ্ছা তুই এত রাগ করিস কেনো আমার সাথে..?(সিয়াম)
---তো কি করবো.?? রাগ করার মত কাজ করিস কেনো..?তুই আমার চুল এ টান দিলি কেনো.? জানিস না চুলে ধরা আমার একদম পছন্দ না(স্নিগ্ধা)
--আচ্ছা কাল থেকে আমার লাইটার টা সাথে রাখব
--কেনো..?
---তোর চুলে আগুন ধরিয়ে দিবো।
:
এটা শুনে মেজাজ আরো খারাপ হলো,হনহন করে গেইটের কাছে পৌছালাম।হটাৎ পেছনে ফিরি,দেখি সিয়াম নেই।কই যে গেলো ছেলে টা,ভাবছি।নাহ,ক্লাসে যাই আবার,দেখে আসি সে কই।
সিঁড়িতে পা রাখলাম,সামনে যেতে না যেতেই সিঁড়িতে ধাক্কা খেলাম। এমন সময় দেখলাম সিয়াম মেঝেতে পড়ে আছে, আমি তো হতবাক হয়ে গেলাম,দ্রুত তার কাছে গেলাম,,,তার মাথা টা আমার কোলে রেখে বার বার ডাকছি তাকে,,কিন্ত সে কোনো আন্সার দিচ্ছে না।আমি প্রায় কান্না করছি,,আমার কান্না শুনে আশে পাশের কিছু শিক্ষার্থী আসল।তাদের সাহায্যে আমি সিয়াম কে হাসপাতাল নিতে সক্ষম হই।
:
কতক্ষন ধরে ওয়েট করছি বাট ডাক্তার আসছে না,,এই ফাঁকে সিয়ামের বাবা,মা কে আমরা খবর দেই,আমার সাথে আরো কিছু ফ্রেন্ড ছিলো।সিয়ামের বাবা মা এসেছিলো আর বলতে লাগল,কাল ই তো ঢাকা যাওয়ার কথা ছিলো,,সিয়াম কে ঢাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা ছিলো।
কথা গুলো আমি আড়াল থেকে শুনেছি,বাট বুঝে উঠিতে পারিনি সিয়াম কে হাসপাতাল কেনো ভর্তি করাবে।
কিছুক্ষন পর ডাক্তার এলো,,ডাক্তারের ফেইস টা কেমন জানি হয়ে আছে।মন খারাপ মে বি।
আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম সিয়াম কেমন আছে.?? তিনি কিছুই বলল না,,আবার জিজ্ঞেস করার পর বলছে,, সরি।
আমি বললাম মানে..?
ডাক্তার বলল,ছেলেটা বেঁচে নেই,,ব্রেণ স্ট্রোক করেছে। তাকে বাঁচাতে পারিনি।
কথা টা শুনার পর আমি ভেঙে পড়লাম খুব,কান্না আসছিলো খুব,নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি আর,,সবার সামনেই কান্না করছি,,খুব কষ্ট হচ্ছিলো।
:
প্রায় ৬ মাস হয়ে গেলো,কলেজে যাই না।সিয়াম চলে যাবার পর থেকে আর কলেজে পা রাখিনি।হটাৎ একদিন স্যার ফোন দিয়ে বলল,কলেজে যেতে, তা না হলে মার্কস কমিয়ে দিবে এক্সামে।
তাই ওই দিন কলেজে পা রাখলাম,,প্রায় ৬ মাস পর কলেজে আসলাম,চারদিক আগের মতই,,সব কিছুই আগের মত,কিন্ত তারপরেও যেনো কি নাই,,খুব খালি খালি লাগছে।ক্লাসের দিকে গেলাম,স্যার দেখে তো মহা খুশি,স্যারের সাথে দেখা করে সেমিনারে বসলাম,খুব বৃষ্টি হচ্ছে,,,ব্যাগ টা খুলে বইটা হাতে নিলাম,বইয়ের ভেতর একটি চিরকুট ছিলো,,আরে হ্যা এটা তো সিয়াম দিয়েছিলো বাট আজ অবধি এটা পড়া হয়নি।চিঠি টা নিয়ে জানালার পাশে গেলাম,তারপর খুললাম।প্রথমেই লিখা ছিলো,
:
প্রিয় সিগ্ধা,
জানিস তোর সাথে চলতে চলতে কখন যে নিজের অজান্তে তোকে ভালোবেসে ফেলেছি বুঝেই উঠতে পারেনি।
আচ্ছা তোর কি ঐ দিনটার কথা মনে আছে যেখানে আমাদের প্রথম পরিচয় হয়..?
কলেজ ক্যান্টিনে তুই একটি নীল জামা পড়ে গিয়েছিলি, দেখতে এক বারে 'রূপকথার সম্রাজ্ঞীর মত লাগছিলো, তারপর কফি অর্ডার দিতে একটু ভুল বুঝা বুঝি!
সেইখান থেকেই পরিচয় তারপর আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব।
প্রতিটা সময় তোকে বলতে চেয়েছি যে আমি তোকে ভালোবাসি কিন্তু ভয়ে ছিলাম যদি বন্ধুত্বটা নষ্ট হয়ে যায় যদি..?আমায় ভুল বুঝে চলে যাস যদি..?
আমি যত দিন পৃথিবীতে থাকব ছায়ার মত তোর পাশে থাকতে চেয়েছিলাম।
জানিস আজ কাল না আমার কিছুই ঠিক যাচ্ছে না মাঝে মাঝে মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব হয়।
যে কোনো সময় মারা যেতে পারি। যখন থেকে ডাক্তারের কাছে এই কথা শুনেছি তারপর হতে তোকে আর আমার মনের কথাটা কথাটা বলার সাহস পাইনি কারণ আমার এই অনিশ্চিত জীবনের সাথে তোকে জড়াতে চাইনি।
জানি আজ আমার চিঠিটা পড়ে তোর অনেক অভিমান হচ্ছে আমার উপর।নিয়তি বড়ই নিষ্ঠুর।
জানিস প্রতিটা মুহূর্তে তোকে অনেক মিস করি।
যদি কখনো মনে হয় আমি তকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছি তাহলে বুকে হাত দিয়ে দেখিস মৃদু বাতাস হয়ে তোর নিজের অজান্তেই মন ছোঁয়ে গেছি।
যদি কখনো আমাকে ভেবে একাকিত্ব অনুভব হয়, তাহলে এই আকাশটার দিখে থাকিয়ে দেখিস তারাগুলো আমার হয়ে শুধু তোকেই পাহারা দিচ্ছে।
:
সিয়াম এর এই চিঠিটা পড়ার পর থেকেই মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো।'সিয়াম এর মুখ থেকে একটি বার এর জন্য ভালোবাসি কথা টা শুনার জন্য মনটা চিৎকার করে কেঁদে উঠে।এখনো সিয়াম এর প্রতিটা স্মৃতি খুব যত্ন করে আমার কাছে রেখে দিয়েছি।এই ছিলো সেই ছেলেটা যে পুরোটা ডিপার্টমেন্ট গরম রাখত আড্ডা,কথা,দুষ্টুমি করে,,সে আজ নেই,আমাকে রাগাবার ও কেউ নেই আজ,কেউ নেই আমাকে হাসাবার।আজ তার সাথে কাটানো সেই স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ছে,,,,আর পরোক্ষনেই আমার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে এলো.....!!!
0 comments: