
নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ তৈরির জন্য মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি সেবার অপারেটর নিয়োগে নিলাম এক সপ্তাহ পিছিয়েছে।
বিটিআরসি নিলামযোগ্য আবেদনকারীর নাম প্রকাশ করবে ৭ সেপ্টেম্বর।
একইসঙ্গে নোটিসে ১৮ সেপ্টেম্বর বিড আর্নেস্ট মানি জমা, ২০ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণ/বাতিলের চিঠি প্রদান এবং ২৫ সেপ্টেম্বর নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার দিন নির্ধারণ করেছে বিটিআরসি।
গত ১৪ জুন সংবাদ সম্মেলন করে ২১ সেপ্টেম্বর নিলামের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।
ওই সময় তিনি বলেন, “নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর লাইসেন্স হস্তান্তর করে এ বছর সেবা চালু করা যাবে বলে আমরা আশা করছি।”
অপারেটরের সেবায় সন্তুষ্ট না হলেও এখন অনেকে নম্বর পরিবর্তনের ঝক্কিতে যেতে চান না। এমএনপি চালু হলে তারা নম্বর ঠিক রেখেই অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বহু প্রতীক্ষিত এই সুযোগ তৈরির জন্য গত ২ ডিসেম্বর এমএনপি নীতিমালায় অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের কাজ কারা পাবে, সেই প্রক্রিয়া ‘স্বচ্ছ’ করতে কয়েকটি মূল্যায়ন মানদণ্ড যুক্ত করে গত জানুয়ারিতে এমএনপি নীতিমালার সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর পর মে মাসে তা চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
>> এমএনপি সুবিধা দিতে অপারেটরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয় আগেই বিষয়টি অনুমোদন করেছে।
>> একবার এমএনপি সুবিধা নেওয়ার পর গ্রাহক আবার নতুন কোনো অপারেটরে যেতে চাইলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
>> বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি পরিষেবা চালু রয়েছে।
নিলাম প্রক্রিয়ায় আবেদন ফি এক লাখ টাকা, বিড আর্নেস্ট মানি ১০ লাখ টাকা, নিলামের ভিত্তি মূল্য এক কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
এছাড়া বার্ষিক লাইসেন্স ফি হিসেবে ২০ লাখ টাকা, রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ প্রথম বছর শূন্য শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছর থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে এক কোটি টাকা দিতে হবে।
প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে এই লাইসেন্স দেওয়া হবে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এর মেয়াদ হবে ১৫ বছর। পরে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা যাবে।
ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও লাইসেন্স দেওয়া হতে পারে বলেও শাহজাহান মাহমুদ জানান।
লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা
# বাংলাদেশে বসবাসকারি যে কোনো ব্যক্তি বা প্রোপাইটরশিপ বা পার্টনারশিপ কোম্পানি এবং আরজেএসসির অন্তর্ভুক্ত যে কোনো কোম্পানি।
# বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী বা প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারী যৌথভাবে এ লাইসেন্সের আবেদন করতে পারবে। তবে এককভাবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে না।
# বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী বা প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যৌথ আবেদনের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীর মূলধনের অনুপাত ৫১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
# প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীকে তাদের মালিকানার অংশ সরাসরি বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারবে না।
# বাংলাদেশে সেলুলার মোবাইল ফোন লাইসেন্সধারী কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা তাদের মালিকানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এমএনপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না।
# আবেদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এ কাজে অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ন্যূনতম এক কোটি গ্রাহককে সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তাদের।
# কমিশনের লাইসেন্সধারী যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কমিশনের পাওনা বকেয়া রেখেছে, তারাও আবেদন করার যোগ্য হবে না।
লাইসেন্স প্রক্রিয়া
কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর ৫ হাজার টাকা পে-অর্ডার অথবা ব্যাংক ড্রাফটসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।
আবেদনগুলো মূল্যায়ন কমিটি যাচাই বাছাই করবে। অভিজ্ঞতা, কারিগরি জ্ঞান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও আর্থিক সঙ্গতি খতিয়ে দেখবে।
প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীদের নিলামের আগে ১০ লাখ টাকা বিড আর্নেস্ট মানি জমা দিতে হবে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে।
কমিশন নির্ধিারিত সময়ে ‘ব্রিটিশ পদ্ধতিতে’ নিলাম করবে। নিলামের দিনই সর্বোচ্চ নিলামকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য মনোনীত করা হবে।
‘রোলআউট টার্গেট’
>> লাইসেন্স পাওয়ার পর ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর এক শতাংশকে, এক বছরের মধ্যে পাঁচ শতাংশকে এবং পাঁচ বছরের মধ্যে দশ শতাংশকে ‘পোর্টিং ও রাউটিং’ সেবা দিতে হবে।
>> ১৮০ দিনের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জমা রাখা ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন কেটে নেবে।
>> নির্ধারিত বাকি সময়ের মধ্যে রোলআউট টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে অবশিষ্ট ব্যাংক গ্যারান্টি কেটে নিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। লাইসেন্স দেওয়া হবে নিলামের পরবর্তী বিডারকে।
বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব খানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
0 comments: