বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

এমএনপির নিলাম এক সপ্তাহ পেছাল

এমএনপির নিলাম এক সপ্তাহ পেছাল

নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ তৈরির জন্য মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি সেবার অপারেটর নিয়োগে নিলাম এক সপ্তাহ পিছিয়েছে।
বিটিআরসি নিলামযোগ্য আবেদনকারীর নাম প্রকাশ করবে ৭ সেপ্টেম্বর।
একইসঙ্গে নোটিসে ১৮ সেপ্টেম্বর বিড আর্নেস্ট মানি জমা, ২০ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণ/বাতিলের চিঠি প্রদান এবং ২৫ সেপ্টেম্বর নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার দিন নির্ধারণ করেছে বিটিআরসি।
গত ১৪ জুন সংবাদ সম্মেলন করে ২১ সেপ্টেম্বর নিলামের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।
ওই সময় তিনি বলেন, “নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর লাইসেন্স হস্তান্তর করে এ বছর সেবা চালু করা যাবে বলে আমরা আশা করছি।”
অপারেটরের সেবায় সন্তুষ্ট না হলেও এখন অনেকে নম্বর পরিবর্তনের ঝক্কিতে যেতে চান না। এমএনপি চালু হলে তারা নম্বর ঠিক রেখেই অন্য অপারেটরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বহু প্রতীক্ষিত এই সুযোগ তৈরির জন্য গত ২ ডিসেম্বর এমএনপি নীতিমালায় অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের কাজ কারা পাবে, সেই প্রক্রিয়া ‘স্বচ্ছ’ করতে কয়েকটি মূল্যায়ন মানদণ্ড যুক্ত করে গত জানুয়ারিতে এমএনপি নীতিমালার সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর পর মে মাসে তা চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
>> এমএনপি সুবিধা দিতে অপারেটরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয় আগেই বিষয়টি অনুমোদন করেছে।
>> একবার এমএনপি সুবিধা নেওয়ার পর গ্রাহক আবার নতুন কোনো অপারেটরে যেতে চাইলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
>> বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি পরিষেবা চালু রয়েছে।
নিলাম প্রক্রিয়ায় আবেদন ফি এক লাখ টাকা, বিড আর্নেস্ট মানি ১০ লাখ টাকা, নিলামের ভিত্তি মূল্য এক কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
এছাড়া বার্ষিক লাইসেন্স ফি হিসেবে ২০ লাখ টাকা, রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ প্রথম বছর শূন্য শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছর থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে এক কোটি টাকা দিতে হবে।
প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে এই লাইসেন্স দেওয়া হবে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এর মেয়াদ হবে ১৫ বছর। পরে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করা যাবে।
ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও লাইসেন্স দেওয়া হতে পারে বলেও শাহজাহান মাহমুদ জানান।
লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা
# বাংলাদেশে বসবাসকারি যে কোনো ব্যক্তি বা প্রোপাইটরশিপ বা পার্টনারশিপ কোম্পানি এবং আরজেএসসির অন্তর্ভুক্ত যে কোনো কোম্পানি।
# বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী বা প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারী যৌথভাবে এ লাইসেন্সের আবেদন করতে পারবে। তবে এককভাবে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে না।
# বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী বা প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যৌথ আবেদনের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীর মূলধনের অনুপাত ৫১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
# প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীকে তাদের মালিকানার অংশ সরাসরি বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারবে না।
# বাংলাদেশে সেলুলার মোবাইল ফোন লাইসেন্সধারী কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা তাদের মালিকানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এমএনপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না।
# আবেদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এ কাজে অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ন্যূনতম এক কোটি গ্রাহককে সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তাদের।
# কমিশনের লাইসেন্সধারী যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কমিশনের পাওনা বকেয়া রেখেছে, তারাও আবেদন করার যোগ্য হবে না।
লাইসেন্স প্রক্রিয়া
কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর ৫ হাজার টাকা পে-অর্ডার অথবা ব্যাংক ড্রাফটসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।
আবেদনগুলো মূল্যায়ন কমিটি যাচাই বাছাই করবে। অভিজ্ঞতা, কারিগরি জ্ঞান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও আর্থিক সঙ্গতি খতিয়ে দেখবে।
প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীদের নিলামের আগে ১০ লাখ টাকা বিড আর্নেস্ট মানি জমা দিতে হবে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে।
কমিশন নির্ধিারিত সময়ে ‘ব্রিটিশ পদ্ধতিতে’ নিলাম করবে। নিলামের দিনই সর্বোচ্চ নিলামকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য মনোনীত করা হবে।
‘রোলআউট টার্গেট’
>> লাইসেন্স পাওয়ার পর ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর এক শতাংশকে, এক বছরের মধ্যে পাঁচ শতাংশকে এবং পাঁচ বছরের মধ্যে দশ শতাংশকে ‘পোর্টিং ও রাউটিং’ সেবা দিতে হবে।
>> ১৮০ দিনের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জমা রাখা ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন কেটে নেবে।
>> নির্ধারিত বাকি সময়ের মধ্যে রোলআউট টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে অবশিষ্ট ব্যাংক গ্যারান্টি কেটে নিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। লাইসেন্স দেওয়া হবে নিলামের পরবর্তী বিডারকে।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব খানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১৬

নিরাপত্তার স্বার্থে ফেসবুক ব্যবহারে ডিএমপি’র ৮ পরামর্শ

নিরাপত্তার স্বার্থে ফেসবুক ব্যবহারে ডিএমপি’র ৮ পরামর্শ


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে অসচেতনতায় আমরা প্রায়শই নিজেরাই নিজেদের অনিরাপদ করে তুলছি। লোকেশন ট্যাগসহ নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ছবি পোস্ট করার মাধ্যমে আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্যাদি অপরাধীদের সহজলভ্য করে দেই। অপরাধীরা এসব তথ্য ব্যবহার করে খুব সহজেই বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত করে। এ কারণে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। যদি সবাই সচেতনভাবে ফেসবুক ব্যবহার করি তাহলে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব।
বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া একটি পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়।
ওই ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, ৮টি বিষয়ে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।
১. আপনার জন্ম তারিখ
অনেকেই নিজের জন্ম তারিখ ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। এটি আপনার জন্য অনিরাপদ। কারণ তথ্য প্রযুক্তির যুগে জন্ম তারিখ থেকেই অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন হ্যাকারা। অথবা যেকোনো শত্রু এই বিশেষ দিনে টার্গেট করে আপনার ওপর হামলা চালাতে পারে। তাই ফেসবুকে জন্ম তারিখ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২. আপনার শিশু কোথায় পড়াশুনা করে
গত কয়েক বছরের যৌন ও শিশু বিষয়ক অপরাধগুলো গবেষণা করে ইংল্যান্ডের শিশু বিষয়ক সংস্থা এনএসপিসিসি জানায়, অধিকাংশ অভিভাবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অসচেতন ছিলেন। এজন্য অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো ঘটেছে।
অথচ অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে অবেগাপ্লুত হয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। সেইসঙ্গে স্ট্যাটাসে জানিয়ে দেন, তার শিশু কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে। এটি শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। এতে শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে।
৩. আপনার শিশুর ছবি
অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে যেকোনো তথ্য পাবলিকের কাছে শেয়ার করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। যদিও অনেকেই শিশুদের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। দেখা গেল, শত্রুরা আপানার শিশুকে চিনে রাখল। এরপর সুযোগ বুঝে শিশুটিকে অপহরণ করল।’
৪. বর্তমান অবস্থান
যেখানে সেখানে সেলফি তুলে লোকেশন ট্যাগ করে দেওয়াটা অনিরাপদ। এর মাধ্যমে যে কেউ আপনার সবশেষ অবস্থান জানতে পারে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। দেখা গেল, আপনার অবস্থান জেনেই শত্রুপক্ষ আপনার ওপর হামলা করল।
৫. কখন এবং কোথায় যাচ্ছি
দেখা যায়, আমরা কখন, কোথায় যাচ্ছি কিংবা ভ্রমণে বের হচ্ছি সে বিষয়টি ফেসবুকে জানিয়ে দেই। যা মোটেও নিরাপদ নয়। এই বিষয়গুলো জেনে আপনার প্রতিপক্ষ ক্ষতি করতে পারে। হয়তো শত্রুপক্ষ আপনার এমন তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। সেটি জেনে আপনার ওপর হামলা করতে পারে। ফেসবুকে এসব বিষয়ের জানান দেওয়া নিজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
৬. নির্দিষ্ট স্থান ট্যাগ করা
অনেক সময় ফেসবুকে নিজের অবস্থানের নির্দিষ্ট স্থান ট্যাগ করে দেন অনেকেই। ওই সময় আপনার প্রোফাইল যে ভিজিট করবে, সে জানতে পারবে এখন আপনি কোথায় আছেন। সেটি বাসায় কিংবা অফিসে হোক। দেখা গেল, এভাবে কেউ আপনার বাসা ও অফিসের ঠিকানা সংগ্রহ করে রাখল। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে আপনার ক্ষতি করল। আর এ জন্য ফেসবুকে লোকেশন ট্যাগ করা মোটেও নিরাপদ নয়।
৭. ফোন বা মোবাইল নম্বর
অনেকেই মোবাইল কিংবা ফোন নাম্বার ফেসবুকে উন্মুক্ত করে রাখেন। যা সম্পূর্ণভাবে অনিরাপদ। দেখা গেল, শত্রুপক্ষ আপনার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে এবং সুযোগ বুঝে কাজ করে। পাশাপাশি যে কেউ আপনার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে, সময়ে অসময়ে কল দিয়ে বিরক্ত করার সুযোগ পায়। মোবাইল বা ফোন নম্বর ব্যক্তিগত গোপনীয় জিনিস। পরিচিত ব্যক্তিদের ছাড়া কাউকে ফোন কিংবা মোবাইল নম্বর দেওয়া নিরাপদ নয়।
৮. ক্রেডিট কার্ডের তথ্য
ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে গোপন ও স্পর্শকাতর বিষয়। ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। তবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কিংবা ওয়েবসাইট বুঝেই দিতে হবে। যাতে আপনার দেওয়া তথ্য তাদের কাছে সুরক্ষিত থাকে।
পোস্টে সব শেষে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে লেখা হয়, ‘আর দেরি নয়। সচেতন হবার এখনই সময়।’
দেশের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট কেলেঙ্কারি: বিটিআরসির নোটিশ

দেশের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট কেলেঙ্কারি: বিটিআরসির নোটিশ


গো ব্রডব্যান্ড নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে বিটিআরসি। বুধবার বিটিআরসির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এসএম গোলাম সরোয়ার স্বাক্ষরিত চিঠি গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো হয়েছে।
গো ব্রডব্যান্ড নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে বিটিআরসি। বুধবার বিটিআরসির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর এসএম গোলাম সরোয়ার স্বাক্ষরিত চিঠি গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো হয়েছে। টেলিকম আইন ভঙ্গ করে 'গো ব্রডব্যান্ড' সেবাটি অবৈধভাবে সোনালী ব্যাংকের ৫৫১টি শাখায় কেন দেওয়া হয়েছে চিঠিতে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। রেগুলেটরের কমিশন বৈঠকে এই নেটওয়ার্কটিকে দেশের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় অবৈধ টেলিকম নেটওয়ার্ক’ বলে অভিহিত করা হয়।
এর আগে গো ব্রডব্যান্ড সার্ভিস কিছু ব্যাংকে ফাইবার অপটিক সংযোগ প্রদান করছে এই মর্মে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে রেগুলেটরের কাছে অভিযোগ করার পরই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। আইএসপিএবি সভাপতি এম এ হাকিম রেগুলেটরের কাছে বিষয়টির তদন্ত করার অনুরোধ করে এক চিঠিতে লেখেন, ‘আমরা জেনেছি যে, তারা ফাইবার অপটিক কানেকশনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের জন্য সোনালী ব্যাংকের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যা রীতিমত বেআইনী।’ এর প্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ এক চিঠিতে বিটিআরসি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গ্রামীণফোনকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। এরপর আরও এক দফা সময় দেওয়া হয় তাদের।
দুই দফায় গ্রামীণফোন উত্তর দিলেও বিটিআরসি উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেনি এবং ৪ জুন কমিশন এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিটিআরসি জানায়, ব্যাংকের অনলাইন লেনদেন সহজতর করার জন্য গ্রামীণফোন একটি ফাইবার অপটিক কানেক্টিভিটি প্রতিষ্ঠা করেছে যা মোবাইল অপারেটর লাইসেন্স নীতিমালা বিরুদ্ধ। মোবাইল অপারেটরগুলো শুধুমাত্র মোবাইল ডিভাইস এবং মডেমের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করতে পারবে। দুই দফায় ব্যাখ্যা গ্রহণের পর ২২ জুন বিটিআরসি লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করায় গ্রামীণফোনের সাথে সোনালী ব্যাংকের মধ্যকার ইন্টারনেট সার্ভিস ও ট্রান্সমিশন সেবার চুক্তি বাতিল করে। বিটিআরসির কমিশন মিটিংয়ের সিদ্ধানুসারে 'লাইসেন্সের শর্ত ও টেলিযোগাযোগ আইন ভঙ্গ করে ফাইবার অপটিক্সের মাধ্যমে ফিক্সড সংযোগ প্রদান করে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডকে ইন্টারনেট সার্ভিস ও ট্রান্সমিশণ সেবা প্রদান করার জন্য গ্রামীণফোন ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যকার সম্পাদিত চুক্তিটি অনতিবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হলো।''
এ সিদ্ধান্তের পর এ চুক্তির আর কোনো বৈধতা থাকে না জানিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, 'লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার জন্য ৩০ দিন সময় দিয়ে শো কজও ইস্যু করা হবে।' তবে শোকজটি পাঠানো হয়েছে ২৫ দিন পর। টেলিকম আইন ২০০১ (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুনারে এ জন্য গ্রামীনফোনকে ৩ শত কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে বিটিআরসি। বিটিআরসি বলছে, কমিশনের তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে অপারেটরটি গো ব্রডব্যান্ডের জন্য কমিশন থেকে কোনো রকমের অনুমতি ছাড়াই ২০১২ সাল থেকে ব্যবসা করে গেছে।
কমিশন হতে প্রাপ্ত তথ্যাদি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ জুন গ্রামীণফোন আইএসপি অগ্নি ও এডিএনের সাথ যে সেবার অনুমতি নিয়েছে তাতে বলা হয়েছিল, 'কেবলমাত্র কো-অর্ডিনেশন সার্ভিস নামে এডিএন ও অগ্নি আইএসপি প্রতিষ্ঠানদের সারাদেশে গ্রামীণফোনের গ্রাহক্সেবা কেন্দ্র ব্যবহার করে ইনফাস্ট্রাকচার শেয়ারিং নীতিমালা অনুযায়ী ইন্টারনেট সেবা পৌছে দিতে একটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। উক্ত অনুমোদনে পরিষ্কারভাবে “ইনফাস্ট্রাকচার শেয়ারিং” নীতিমালার আলোকে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং কেবলমাত্র এডিএন ও অগ্নি নামক আইএসপি প্রতিষ্ঠান কো-অর্ডিনেশনেটেড সেবা প্রদানের করতে পারবে বলে পরিষ্কারভাবে নির্দেশনাতে বলে দেয়া হয়।' তবে গ্রামীনফোন সীমা অতিক্রম করে নিজেরাই ওয়াইম্যাক্স ও আইএসপি সেবা দিয়ে গেছে।
বিটিআরসি বলছে, “সোনালী ব্যাংক লিঃ” নামক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমগ্র বাংলাদেশের ব্রাঞ্চ অফিস সমূহে (মোট ৫৫১টি স্থানে) “গো ব্রডব্যান্ড” নামে কেবলমাত্র গ্রামীণফোন ট্রান্সমিশন সংযোগ প্রদান করেছে বলে কমিশনকে জিপি তালিকাসহ প্রদান করেছে বলে জানা যায়। ইহা ইনফ্রাস্ট্রাকচার নীতিমালা’র ৪.৭ ও ৪.৮ নং শর্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। গ্রামীনফোন কমিশন বা নীতিমালাকে সম্পূর্ণ অমান্য করে কোন এনটিটিএন অপারেটরদের সম্পৃক্ত না করে বা কমিশনে তথ্য প্রদান না করে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবথেকে বড় অবৈধ নেটওয়ার্ক স্থাপন করে সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চসমূহ কানেক্ট করেছে এবং লাইসেন্স না থাকা শর্তেও আইএসপি ব্যবসা পরিচালনা করছে।
গ্রামীণফোন একটি থ্রিজি লাইসেন্সি অপারেটর হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কোন প্রকার আইএসপি লাইসেন্স বর্তমানে নেই। সেক্ষেত্রে কোনভাবেই প্রতিষ্ঠানটি সোনালী ব্যাংক লিঃ বা অন্য কাউকে ইন্টারনেট সেবা (মোবাইল ডাটা সার্ভিস ব্যতিত) প্রদান করতে পারে না বা অনুরুপ সেবা দেবার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া মন্ত্রণালয় কমিশন হতে প্রতিমাসে সকল আইএসপি গ্রাহক তথ্য নিয়ে থাকে যেখানে জিপি’র কোন তথ্য কমিশনে প্রদান করে না, এতে গো ব্রডব্যান্ডের কোন গ্রাহকের তথ্য কমিশনে বা মন্ত্রণালয়েও নেই।
জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী মোবাইল অপারেটরটি প্রত্যেক শাখা থেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে আয় করেছে। ৫৫১টি শাখা থেকে প্রতি মাসে আসছে ২৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। প্রাথমিক অবস্থায় চুক্তির মেয়াদ ৩ বছর করা হয়েছিল।
বিটিআরসি বলছে, গো ব্রডব্যান্ড নিয়ে মূলত ৫টি বড় ধরণের অনিয়ম করেছে গ্রামীণফোন। প্রথমত গ্রামীণফোন ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং গাইডলাইন অমান্য করেছে। গাইডলাইন অনুসারে তারা অনুমতি ছাড়া ইনফ্রাস্টকচার শেয়ার বা লিজ দিতে পারে না। দ্বিতীয়ত গ্রামীণফোন অন্য সব মোবাইলফোন অপারেটরের মতই কোন ওয়্যার কানেটিভিটি দিতে পারে না। তৃতীয়ত, তারা ফাইবার কানেকটিভিটি দিচ্ছে, সেটি তারা করতে পারে না, কারণ ফাইবার কানেকটিভিটি দেয়ার একমাত্র অধিকার রয়েছে এনটিটিএন অপারেটরদের!
চতুর্থত, তারা বিটিআরসি'র অনুমতি ছাড়াই সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৭০০ শাখায় ওয়্যার টেকনলজি ইউজ করে ইন্টারনেট কানেকটিভিটি দিচ্ছে। এটাও তারা ওয়াইমেক্স গাইডলাইন অনুসারেই পারে না। পঞ্চমত, তারা ওয়াইমেক্স সার্ভিস দাতা প্রতিষ্ঠান কিউবি ও বাংলালায়নের মত  মোডেম দিয়েও সেবা দিচ্ছে। এর জন্য তাদের কোনো লাইসেন্স নেই! ওয়াইমেক্স সেবা দেওয়ার জন্য কিউবি ও বাংলালায়ন ২১৫ কোটি টাকায় লাইসেন্স নিয়েছে, সেখানে গ্রামীণফোন এডিএন ও অগ্নির সাথে মিলে সেবাটি দিচ্ছে, যেখানে এডিএন এবং অগ্নির লাইসেন্স ফি ৫ লাখ টাকার নিচে!
এ বিষয়ে জানতে গ্রামীণফোনের হেড অফ এক্সটারনাল কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমরা বিটিআরসি থেকে নোটিশ পেয়েছি এবং সে অনুযায়ী'
- প্রিয়।

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬

‘বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে’ বাংলাদেশ

‘বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে’ বাংলাদেশ


যে ভূ-গাঠনিক অবস্থানে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে গবেষকরা সতর্ক করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের একদল গবেষকের এই গবেষণার তথ্য সোমবার নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তেমন ভূমিকম্প ঘটলে তা এ অঞ্চলের ১৪ কোটি মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, এখনই বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠবে এমন কথা বলা না গেলেও দুটি গতিশীল ভূগাঠনিক প্লেট পরস্পরের ওপর চেপে বসতে থাকায় সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে।
গবেষক দলের প্রধান নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ মাইকেল স্টেকলার টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলেন, ওই ধরনের ভূমিকম্প কবে ঘটতে পারে, সে পূর্বাভাস আরও গবেষণা না করে দেওয়া সম্ভব নয়।


ভারতের পূর্ব অংশ ও বাংলাদেশের যে অঞ্চল সম্ভাব্য সেই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তার ১০০ কিলেমিটার ব্যাসের মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের বসবাস।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও অন্যতম দরিদ্র এই অঞ্চলে এ ধরনের একটি ভূমিকম্প মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
তেমন কোনো ভূমিকম্প হলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা ভবন, ভারী শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গ্যাস ক্ষেত্রগুলো ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে গবেষকরা আশঙ্কা করছেন।
গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলছেন, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ১৯ কিলোমিটার গভীর পলি জমে বাংলাদেশের যে ভূ-খণ্ড তৈরি হয়েছে, তা সেই ভূমিকম্পের প্রভাবে জেলাটিনের মত কেঁপে উঠতে পারে এবং কিছু কিছু জায়গায় তরলে পরিণত হয়ে গ্রাস করতে পারে ইমারত, রাস্তাঘাট আর মানুষের বসতি।
তাদের এই গবেষণায় প্রায় ৬২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে এই ভূমিকম্পের ঝুঁকির আওতায় বলা হয়েছে।
অধ্যাপক আখতার রয়টার্সকে বলেন, তেমন মাত্রার ভূমিকম্প সত্যিই হলে তার ক্ষয়ক্ষতি এতোটাই ভয়াবহ হবে যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা হয়ত বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে।
২০০৪ সালে যে ফল্ট লাইনের ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, সেই একই ফল্ট লাইনে নতুন এই ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
দশ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কম্পিউটার মডেল তৈরির মাধ্যমে তারা দেখিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্ব অংশের ভূ-গাঠনিক প্লেট উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে মিয়ানমারের পশ্চিম অঞ্চলের ভূ-গাঠনিক প্লেটে চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা।
ওই গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা টেকটোনিক প্লেটের ওই সরে যাওয়া জিপিএস এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছেন ২০০৩ সাল থেকে। সেই তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্ব অংশের প্লেট মিয়ানমারের পশ্চিম অঞ্চলের প্লেটকে বছরে ৪৬ মিলিমিটার করে ঠেলছে। অধ্যাপক আখতারকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই প্লেটের সংযোগ স্থলে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে অন্তত ৪০০ বছর ধরে। ওই শক্তি একসঙ্গে মুক্তি পেলে তা প্রলয়ঙ্করি ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।
মাইকেল স্টেকলার ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসকে বলেন, এমন একটি বিপদ যে ঘনিয়ে আসছে সে ধারণা গবেষকদের কারও কারও মধ্যে ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য বা মডেল এতোদিন হাতে ছিল না।
“আমরা জানি না, ঠিক কবে সেই বিপদ আসবে, কারণ আমরা জানি না শেষ কবে ওই এলাকায় এরকম পরিস্থিতি হয়েছিল। আমরা বলতে পারছি না- এখনই, না ৫০০ বছর পরে সেই ভূমিকম্প হবে। কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবে দেখতে পাচ্ছি- ওখানে শক্তি জমা হচ্ছে।”
উৎস:  বিডিনিউজ২৪

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬

মোবাইল ফোনকে নিরাপদ রাখবে অ্যান্ড্রয়েড নোগাট

মোবাইল ফোনকে নিরাপদ রাখবে অ্যান্ড্রয়েড নোগাট


অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সাম্প্রতিক সংস্করণ নোগাট হালনাগাদ থাকলে মোবাইল ফোন র্যানসমওয়্যার থেকে নিরাপদ থাকবে বলে দাবি করেছে নিরাপত্তা সফটওয়্যার নির্মাতা সিমানটেক।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, র্যানসমওয়্যার হচ্ছে পরিচিত ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রোগ্রাম, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যান্ড্রয়েডচালিত মোবাইল ফোনে আক্রমণ করতে সাইবার দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করেছে। যন্ত্রের মধ্যে এই ম্যালওয়্যার ঢোকার পর তা যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। অন্যান্য অ্যাপ ও সিস্টেম বন্ধ করে দিতে পারে। এ ছাড়া র্যানসমওয়্যার দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস লক করে দিয়ে অর্থ দাবি করতে পারে দুর্বৃত্তরা।
সাইবার নিরাপত্তা পণ্য নির্মাতা সিমানটেকের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যারের হালনাগাদ সংস্করণটিতে র্যানসমওয়্যার ঠেকানোর বিশেষ প্রযুক্তি রয়েছে। এতে র্যানসমওয়্যার ‘রিসেট পাসওয়ার্ড’ এপিআই ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড বদলে ফেলতে পারবে না।
সিমানটেকের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, স্মার্টফোন ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার মুক্ত রাখতে সফটওয়্যার হালানাগাদ রাখুন। অপরিচিত কোনো উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। অ্যাপ ডাউনলোডের সময় কোন কোন তথ্য চাচ্ছে তা খেয়াল করুন। মোবাইল নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
নোগাট নাম যেভাবে
নোগাট হচ্ছে চিনি, মধু, বাদাম ও ডিমের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি মিষ্টান্ন। এই মিষ্টান্ন বিভিন্ন রকম হতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন সংস্করণের নাম রাখার সময় গুগল বিশেষ ঐতিহ্য অনুসরণ করে। বিভিন্ন ডেজার্ট, মিষ্টান্ন বা চকলেটের নাম অনুসারে এই সংস্করণগুলোর নাম রাখা হয়। এ ছাড়া ইংরেজি অক্ষর এ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এন পর্যন্ত নাম রাখার ক্ষেত্রে অক্ষরগুলো ব্যবহার করেছে। আলফা ও বিটা সংস্করণের পর অ্যান্ড্রয়েড ১ দশমিক ৫ সংস্করণটির নাম রাখা হয় কাপকেক, এরপর আসে ১ দশমিক ৬ সংস্করণ ডোনাট, ২ সংস্করণটি একলেয়ার, ২ দশমিক ২ সংস্করণটি ফ্রয়ো, ২ দশমিক ৩ সংস্করণটি জিঞ্জারব্রেড, ৩ সংস্করণটিকে বলা হয় হানিকম্ব, ৪ সংস্করণটিকে বলা হয় আইসক্রিম স্যান্ডউইচ, ৪ দশমিক ১ সংস্করণটিকে বলা হয় জেলি বিন, ৪ দশমিক ৪ সংস্করণটিকে বলা হয় কিটক্যাট, ৫ কে বলা হয় ললিপপ, ৬ কে বলা হয় মার্শমেলো।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ডেলেপরার সম্মেলন ‘গুগল আই/ও’ সম্মেলনে অ্যান্ড্রয়েড এন সংস্করণটির ঘোষণা দিয়ে এর নাম রাখার জন্য ব্যবহারকারীদের কাছে অনুরোধ করে গুগল। অনেকেই নাম পাঠান।
গুগলের এই অ্যান্ড্রয়েড এন সংস্করণে একাধিক উইন্ডো সমর্থন, উন্নত নোটিফিকেশন সমস্যা, নম্বর ব্লক করার মতো নানা সুবিধা আসছে।