খেলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খেলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

র্যাংকিংয়ের ৬ নাম্বারে ওঠার যে সুবর্ণ সুযোগের হাতছানি বাংলাদেশের !

র্যাংকিংয়ের ৬ নাম্বারে ওঠার যে সুবর্ণ সুযোগের হাতছানি বাংলাদেশের !

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ২০১৫ সাল ছিল খুব সৌভাগ্যবান। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের পর ঘরের মাঠেই হোয়াইট ওয়াশ করেছে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে। সিরিজ জিতেছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
আর মাঠের এই সাফল্যের ছাপ পরে র্যাংকিংয়েও। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাত নম্বরে জায়গা করে নেয় টাইগাররা। এবার হাতছানি আরো একধাপ এগিয়ে ৬ নম্বর দল হওয়ার। সেজন্য চাই সামনে দুই সিরিজে সাফল্য।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসছে ওয়ানডে সিরিজের ৩ ম্যাচই জিতলে এবং এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ যে কোনো ব্যবধানে জিতলেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
সেক্ষেত্রে ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার লড়াইয়েও অবস্থান মজবুত হবে বাংলাদেশের। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অন্য সাত দল সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলার।
গত নভেম্বরের পর থেকে আর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পায়নি মাশরাফিরা। সাত নম্বরে আছে তারা ৯৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে। ছয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা ১ পয়েন্ট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ হেরে। লঙ্কানদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান এখন ৩ পয়েন্ট।
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে ১০ নম্বরে। তার পরের সিরিজের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড অবশ্য আছে দারুণ ফর্মে। পাকিস্তানকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হারানোর পর ১০৭ পয়েন্ট নিয়ে ইংলিশরা আছে ৫ নম্বরে।
ইংলিশদের বিপক্ষে সিরিজ জয় এবং আফগানিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করাই এখন মাশরাফিদের সামনে মুল লক্ষ্য।

ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট শিকার করে শীর্ষ রেকর্ড তালিকায় তিন টাইগার!

ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট শিকার করে শীর্ষ রেকর্ড তালিকায় তিন টাইগার!

বাংলাদেশের টাইগার খেলোয়াড়দের জয়জয়কার সবজায়গায়। একের পর এক রেকর্ডে নিজেদের নাম লেখাচ্ছে বাংলার দুরন্ত ছেলেরা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট শিকার করা সেরা দশ বোলারদের তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন তিন বাংলাদেশি।
এছাড়াও এই তালিকায় আছেন পাকিস্তানি কিংবদন্তী ওয়াসিম আকরাম এবং ওয়াকার ইউনিস।সেরা দশ সর্বকনিষ্ঠ বোলারদের তালিকায় স্পিনারদের চেয়ে পেসারদের আধিপত্য বেশী।
তালিকায় এক মাত্র স্পিনার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তী অফ স্পিনার ও দুসরার জনক সাকলাইন মুশতাক।
সর্বকনিষ্ঠ বোলারদের বয়সের দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় ১৮ বছর বয়সী ৩ জন ১৯ বছর বয়সের ৬ জন এবং ২০ বছর বয়সী বোলার হিসেবে আছেন মাত্র একজন।
সর্বকনিষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকার করা বোলারদের তালিকার বাংলাদেশী তিন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন ১৮ বছর বয়সী এবং ১৯ বছরের দুইজন এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
চলুন দেখে নেয়া যাক তালিকাটি…
১) ওয়াকার ইউনিস- ৬/২৬ বনাম শ্রীলংকা (১৯৯০):
সর্বকনিষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকার করা সেরা দশ বোলারের তালিকায় প্রথম স্থানে আছেন পাকিস্তানী কিংবদন্তী ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনিস। ১৯৯০ সালে এশিয়া কাপের পঞ্চম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে মাত্র ১৮ বছর ১৬৪ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট শিকার করেন ওয়াকার।
২) ওয়াসিম আকরাম- ৫/২১ বনাম অস্ট্রেলিয়া ( ১৯৮৫):
সর্বকনিষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকার করা সেরা দশ বোলারের তালিকায় ওয়াকার ইউনিসের পরই আছেন তার বোলিং সঙ্গী পাকিস্তানি কিংবদন্তী এবং সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম।
১৯৮৫ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে
ম্যাচ ওয়াসিম ১৮ বছর ২৬৬ দিন বছর বয়সে এই রেকর্ড গড়েন।
৩) আফতাব আহমেদ- ৫/৩১ বনাম নিউজিল্যান্ড (২০০৪):
তালিকার তৃতীয় স্থানে ওয়াসিম-ওয়াকারের পরেই আছেন বাংলাদেশি আফতাব আহমেদ। ব্যাটিংয়ের জন্য সুপরিচিত হলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পার্ট টাইম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট শিকার করে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন।
২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৮ বছর ৩৬১ দিন বয়সে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার করে এই রেকর্ড গড়েন আফতাব।
৪) তাসকিন আহমেদ- ৫/২৮ বনাম ভারত (২০১৪):
সবচেয়ে কম বয়সে পাঁচ উইকেট শিকারি বোলাদেরদের তালিকায় আফতাবের পরের অবস্থানে দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে তালিকার চার নম্বরে আছেন ডানহাতি ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ।
২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন তাণ্ডবে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে ধ্বস নামে। মিরপুরের ওভারকাস্ট কন্ডিশনে ২৮ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেন এই গতিতারকা।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে মাত্র ১৯ বছর ৭৫ দিন বছর বয়সে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট শিকার করেন তাসকিন আহমেদ।
৫) আকিব জাভেদ- ৭/৩৭ বনাম ভারত (১৯৯১):
তালিকার পাঁচ নম্বর স্থানে তৃতীয় পাকিস্তানি বোলার হিসেবে যায়গা করে নিয়েছেন মিডিয়াম ফাস্ট বোলার আকিব জাভেদ। ১৯ বছর ৮১ দিন বয়সে আকিব ভারতের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েন।
৬) উমর গুল- ৫/১৭ বনাম বাংলাদেশ (২০০৩):
তালিকায় আকিবের পরের স্থান করে নিয়েছেন আরেক পাকিস্তানী উমর গুল।
২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে লাহোরে ১৯ বছর ১৫৪ দিন বয়সে ১৭ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন এই ফাস্ট বোলার।
৭) মুস্তাফিজুর রহমান- ৫/৫০ বনাম ভারত (২০১৫):
সর্বকনিষ্ঠ পাঁচ উইকেট শিকার করা সেরা দশ বোলারদের তালিকায় তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে সপ্তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অভিষেক ম্যাচেই ১৯ বছর ২৮৫ দিন বয়সে পাঁচ উইকেট শিকার করে এই রেকর্ড গড়েন তিনি।
মূলত মুস্তাফিজের অসাধারণ বোলিং পারফরমেন্সের কারণেই সেই ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
৮) আব্দুর রাজ্জাক- ৫/৩১ বনাম শ্রীলংকা (১৯৯১):
১৯৯৯ সালের শারজাহ কাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৯ বছর ৩১৭ দিন বয়সে পাঁচ উইকেট শিকার করে এই রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান অলরাউন্ডার আব্দুর রাজ্জাক। তালিকার আট নম্বরে স্থানে জায়গা করে নেয়া এই অলরাউন্ডার সেই ম্যাচে শ্রীলংকার ব্যাটিং অর্ডারে একাই ধ্বস নামিয়েছিলেন।
৯) সাকলাইন মুশতাক- ৫/৪৪ বনাম নিউজিল্যান্ড ( ১৯৯৬):
সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট শিকারের তালিকায় এক মাত্র স্পিন বোলার হিসেবে নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন পাকিস্তানী স্পিন লিজেন্ড এবং দুসরার জনক সাকলাইন মুশতাক।
মাত্র ১৯ বছর ৩৪১ দিন বছর বয়সে সাকলাইন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট শিকার করে এই রেকর্ডে নাম লেখান।
১০) জস ডেইভি- ৫/৯ বনাম আফগানিস্তান (২০১০):
তালিকায় এক মাত্র উপমহাদেশের বাইরের খেলোয়াড় হিসেবে দশ নম্বর স্থানে আছেন স্কটিশ অল রাউন্ডার জস ডেইভি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ম্যাচে এই অলরাউন্ডার মাত্র ২০ বছর ১৪ দিন বয়সে পাঁচ উইকেট নেন।

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬

ইউরোর সেরা গ্রিজমান

ইউরোর সেরা গ্রিজমান


ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড অঁতোয়ান গ্রিজমান ইউরো ২০১৬ -এর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
অ্যালেক্স ফার্গুসন, ডেভিড ময়েসসহ ১৩ জনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল টুর্নামেন্টের সেরা হিসেবে ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে সেরা হিসেবে বেছে নেয় বলে জানায় উয়েফা।
৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুটও জেতেন গ্রিজমান। গত মাসে স্পেনের দল আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে নতুন দীর্ঘ-মেয়াদী চুক্তি করা এই ফরোয়ার্ড অবদান রাখেন দুটি গোলে।
রোববারের ফাইনালে জাল খুঁজে পাননি গ্রিজমান। লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি তার দলও। অতিরিক্ত সময়ের গোলে পর্তুগালের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় স্বাগতিক ফ্রান্স।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সর্বসম্মতিতে গ্রিজমান টুর্নামেন্ট সেরা হন জানিয়ে উয়েফার চিফ টেকিনিক্যাল অফিসার ইওয়ান লুপেস্কু বলেন, “খেলেছেন এমন প্রত্যেক ম্যাচে অঁতোয়ান গ্রিজমান ছিলেন একটা হুমকি। তিনি দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। তার রয়েছে কৌশল, দূরদৃষ্টি এবং উচুঁমানের ফিনিশিং।”
পর্তুগালের মিডফিল্ডার রেনাতো সানচেস টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের হয়ে সিদ্দিকুরই প্রথম

বাংলাদেশের হয়ে সিদ্দিকুরই প্রথম


ইতিহাসের অংশ হতে অপেক্ষার ক্ষণ গুনছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। অবশেষে সুসংবাদটা পেয়েছেন, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে খেলবেন এই গলফার। গলফের অলিম্পিক র্যাঙ্কিংয়ে ৬০-এর মধ্যে থাকলেই চলত। গত সপ্তাহে চীনা তাইপেতে টুর্নামেন্ট শেষ করার পর ছিলেন ৫৩তম স্থানে। বলতে গেলে তখনই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সিদ্দিকুরের রিও ডি জেনিরোতে যাওয়া। আজ প্রকাশিত র্যাঙ্কিং শেষে আর কোনো সংশয় রইল না। সিদ্দিকুরের বর্তমান র্যাঙ্কিং ৫৬। এর মানে আগামী ৫ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া ব্রাজিল অলিম্পিকে যাচ্ছেন সিদ্দিকুর। এবারের অলিম্পিকে বিশ্বের সেরা গলফারদের অনেকেই যাচ্ছেন না জিকা ভাইরাস আতঙ্কে। সিদ্দিকুরের ব্রাজিল যাওয়ার পেছনে এটিরও একটু হাত আছে। তবে মরিশাসে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশিয়া ব্যাংক টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হওয়াটাই সিদ্দিকুরের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছিল অনেক। সিদ্দিকুর ছাড়াও এরই মধ্যে কোটা প্লেস নিয়ে অলিম্পিক যাওয়া নিশ্চিত করেছেন শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি, তিরন্দাজ শ্যামলী রায় ও সাঁতারু মাহফিজুর রহমান।

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬

প্রথমবারের মতো ইউরোর শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল

প্রথমবারের মতো ইউরোর শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল


শেষ পর্যন্ত মাঠে না থাকলেও স্বপ্নপূরণ হলো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। ফ্রান্সকে একমাত্র গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোর শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল। সাঁ-দেনিতে ফাইনালে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে চোখের জলে মাঠ ছেড়েছিলেন চোটে পড়া রোনালদো। সতীর্থরা হতাশ করেনি অধিনায়ককে। অতিরিক্ত সময়ে এদেরের চমৎকার গোলে স্বাগতিকদের হতাশ করে দশম দেশ হিসেবে ইউরোর শিরোপা জিতে নেয় ফের্নান্দো সান্তোসের দল। ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধ আর অতিরিক্ত সময়ের উত্তেজনার কমতি ছিল না; কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হতাশ করেছে প্রথমার্ধের খেলা। রোববার রাতে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে প্রথম ভালো সুযোগটা পেয়েছিলেন নানি। ডি-বক্সে বুক দিয়ে বল নামিয়ে এই ফরোয়ার্ডের নেওয়া শট চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে। নবম মিনিটে অঁতোয়ান গ্রিজমানের হেড দারুণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান পর্তুগিজ গোলরক্ষক রুই পাত্রিসিও। এর দুই মিনিট আগে দিমিত্রি পায়েতের সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যথা পেয়েছিলেন রোনালদো। এরপর দুইবার চোটের পরিচর্যায় মাঠের বাইরে গিয়ে ফিরলেও বোঝা যাচ্ছিল, এভাবে বেশিক্ষণ থাকতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ছুড়ে ফেলে নিজেই ইঙ্গিত করলেন মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার। ২৫তম মিনিটে হেঁটেও বের হতে পারলেন না; স্ট্রেচারে শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে হলো রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডকে। নিষ্প্রাণ প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা ফেরে ফাইনালে। ৬৫তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে কিংসলে কোমানের ক্রসে দুর্দান্ত হেড করেছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা গ্রিজমান। পাত্রিসিও হাল ছেড়েও দিয়েছিলেন; কিন্তু বল একটুর জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। ১০ মিনিট পর খুব কাছ থেকে অলিভিয়ে জিরুদের শট ঠেকিয়ে দেন পাত্রিসিও। ৮০তম মিনিটে নানির ক্রস জালে প্রায় ঢুকে যাচ্ছিল। কিন্তু তৎপর ছিলেন গোলরক্ষক উগো লরিস। চার মিনিট পর মুসা সিসোকোর দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে আবারও পর্তুগালের রক্ষাকর্তা পাত্রিসিও। তবে যোগ করা সময়ে পরাস্ত হয়েছিলেন তিনি। ভাগ্য ভালো পর্তুগালের; জিরুদের বদলি হিসেবে নামা অঁদ্রে-পিয়েরে জিনিয়াকের শট কাছের পোস্টে লেগে ফিরে। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ইউরোর ফাইনালের ইতিহাসে এই প্রথম নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ দিকে এদেরের হেড ঠেকিয়ে দেন অধিনায়ক লরিস। ১০৮তম মিনিটে পরাস্ত হয়েছিলেন লরিস। তবে রাফায়েল গেররেইরোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে লাগে। তবে পরের মিনিটেই আসে জয়সূচক গোলটি। বদলি হিসেবে নামা এদেরের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া আচমকা নিচু শট ঝাঁপিয়ে পড়েও ঠেকাতে পারেননি লরিস। প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে এটাই এদেরের প্রথম গোল! ২০০৪ সালে গ্রিসের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল স্বাগতিক পর্তুগাল। সেবার পরাজিত দলে ছিলেন রোনালদো। ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম কোনো শিরোপার অপেক্ষা ঘুচলো তার ১২ বছর পর। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরুর আগে মাঠে গিয়ে সতীর্থদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন রোনালদো। খুঁড়িয়েই পুরস্কার নেওয়ার জন্য সিড়ি ভেঙে উঠলেন তিনি। ট্রফি যখন উঁচিয়ে ধরেছেন মাথার উপর তখন চোখের জল আর হাসিতে সব মিলেমিশে একাকার। ক্লাবের হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা জয়ের পর দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক কোনো ট্রফি ছোঁয়াই কেবল বাকি ছিল তিন বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলারের।