ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

কুরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার দুটি শর্ত

কুরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার দুটি শর্ত

আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনে আত্মত্যাগের মহান ইবাদাতের নাম হলো কুরবানি। যে কাজে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর বন্ধু হওয়ার জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতেই কুরবানির বিধান আমাদের ওপর আরোপিত করা হয়েছে।
এ কুরবানি কোনো লোক দেখানো ইবাদাতের নাম নয়। কুরআন ও হাদিসে কুরবানির বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং প্রমাণিত যে, কোনো নেক আমলই আল্লাহ তাআলার নিকট ততক্ষণ পর্যন্ত গৃহীত হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না তাতে দুটি শর্ত পূরণ করা হয়। কুরবানিও তার ব্যতিক্রম নয়। যা তুলে ধরা হলো-
প্রথমত
কুরবানির জন্য প্রয়োজন ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা। কুরবানি হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে। নিয়তে পরিশুদ্ধতা না থাকলে কুরবানি কবুল হবে না। দুনিয়ায় প্রথম কুরবানি হাবিল ও কাবিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত কুরবানি। এতে কাবিলের কুরবানি কবুল হয়নি। কাবিলের কুরবানি কবুল না হওয়া প্রসঙ্গে হাবিল বলেছিলেন, ‘ আল্লাহ তাআলা মুত্তাক্বিদের (পরহেযগার ও সংযমী) কুরবানিই কবুল করে থাকেন। (সুরা মায়িদা : আয়াত ২৭)
কুরবানির একনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে কখনো ওগুলির (কুরবানির জন্তুর) গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (সংযমশীলতা); এভাবে তিনি ওগুলিকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এই জন্য যে, তিনি তোমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন। আর তুমি সুসংবাদ দাও সৎকর্মশীলদেরকে। (সুরা হজ : আয়াত ৩৭)
দ্বিতীয়ত
আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত বিধান অনুযায়ীই কুরবানি করতে হবে। এ কুরবানিসহ কোনো ইবাদাতেই তাঁর অংশীদার স্থাপন করা যাবে না। তবেই তাঁর কুরবানিসহ যাবতীয় ইবাদাত কবুল হওয়ার আশা করা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদাতে কাউকে শরিক না করে। (সুরা কাহফ : আয়াত ১১০)
পরিশেষে…
যারা শুধুমাত্র বেশি করে গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানি দেয় অথবা লোক সমাজে সুনাম অর্জনের উদ্দেশ্যে মোটা-তাজা দেখে উচ্চ মূল্যের পশু ক্রয় করে এবং তা প্রদর্শন ও প্রচার করে থাকে; তাদের কুরবানি যে ইবাদত নয়, তা সবারই জানা।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সকল কুরবানিদাতার মানসিকতার পরিশুদ্ধতা দান করুন। কুরবানিসহ সকল ইবাদাত-বন্দেগি গ্রহণযোগ্য করতে উপরোক্ত দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা একান্ত আবশ্যক। সুতরাং কুরবানি হোক শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। তিনি সবার কুরবানি কবুল করুন। আমিন।

মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬

আত্মহত্যা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

আত্মহত্যা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?


বাংলাদেশে আত্মহত্যা প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আর এই আত্মহত্যাকারীদের ৯০ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের দশম আত্মহত্যা প্রবণ দেশ।
বাংলাদেশ পুলিশ এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরিপ বলছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮টি তাজা প্রাণ আত্মহত্যার কারণে ঝরে যাচ্ছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, হতাশা থেকে যখন কেউ উপলব্ধি করে যে, তার জীবনের কোনো মূল্য নেই, তখন সে আত্মহত্যা করে। আর আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতেও আত্মহত্যাকারীদের নব্বই শতাংশই কোনো-না-কোনো ভাবে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। আত্মহত্যার কারণ যাই হোক না কেনো এটা কোনো সমাধান নয়।
ইসলামেও আত্মহত্যা হারাম। ইসলামে আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে সূরা নিসার ২৯ থেকে ৩০ নম্বর আয়াতে ঘোষণা দেন-
‘তোমরা নিজেকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর দয়ালু। আর যে বাড়াবাড়ি ও জুলুমের মাধ্যমে এ কাজ করবে, তাকে আমি আগুনে পোড়াব। আর এ কাজ করা আল্লাহর পক্ষে সহজতর।’ উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ তাআলা আত্মহত্মাকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি ঘৃণ্য এ কাজের পরিণামেরও চূড়ান্ত দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
আত্মহত্মা কেবল সকল নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে একমাত্র সমাধান হতে পারে না। কারণ মানব জীবন অতি মূল্যবান।
আর যারা এ পথকে অনুসরণ করে তাদের পরিনতিও ভয়াবহ। এ জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মাতকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন- হযরত জুনদুব ইবন আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের পূর্বেকার এক লোক আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। তাই সে একখানা চাকু দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেললো। তারপর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করলো। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারী)
এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন- ‘যে ফাঁসি লাগিয়ে বা গলা টিপে আত্মহত্যা করে, জাহান্নামে সে নিজেই নিজেকে অনুরূপভাবে শাস্তি দিবে। আর যে ব্যক্তি বর্শা ইত্যাদির আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে জাহান্নামেও সে সেভাবে নিজেকে শাস্তি ভোগ করে।’ (বুখারী)
আত্মহত্যা সম্পর্কে রাসূল (সা.) আরো বলেন- ‘যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে সেও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐভাবে নিজ হাতে বিষপান করতে থাকবে।’
অন্য হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে তাকে সে অস্ত্র দিয়েই দোযখের মধ্যে শাস্তি দেয়া হবে।’ (বুখারী)
নিশ্চিত হয়েই ইসলামকে ধর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছি: মিসেস জ্যামিকা নিইল

নিশ্চিত হয়েই ইসলামকে ধর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছি: মিসেস জ্যামিকা নিইল


সত্য ও বাস্তবতা এমন এক বিষয় যা কখনও ধামাচাপা দেয়া যায় না। যেমনটি বলা হয়, ‘ধর্মের ঢোল আপনিই বাজে’, ঠিক তেমনি ইসলাম প্রচারের জন্যও ঢোল-তবলার বা প্রচারণার দরকার হয় না। তাই সত্য-পিয়াসী মানুষের কাছে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বজনীনতা ঠিকই ফুটে ওঠে।
ইসলামের বিরুদ্ধে নানা বাধা, বিষোদগার ও নেতিবাচক প্রচারণা সাময়িকভাবে এর সৌন্দর্য ও বেহেশতী সৌরভকে অসচেতন ব্যক্তি বা অমুসলিমদের কাছে আড়াল করতে পারলেও সব বাধা ছাপিয়ে সত্য-পিয়াসীদের মনের মুকুরে স্থান করে নেয় ইসলামের অনির্বাণ আলো। প্রদীপ্ত সূর্যের আলোর মতই ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ে দিগ-দিগন্তে। কেউ আগে বা কেউ পরে অফুরন্ত আলোর এ বন্যায় অবগাহন করে ধন্য করছেন নিজেদের। মার্কিন নও-মুসলিম মহিলা মিসেস “জ্যামিকা নিইল” এমনই সৌভাগ্যবানদের একজন। যৌবনেই ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণার পুরস্কার হিসেবে ঈমানের অমূল্য সম্পদ অর্জন করেছেন এই মার্কিন মহিলা।
এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন: “আমি জন্ম নিয়েছিলাম এক গোঁড়া খ্রিস্টান পরিবারে। (এ ধর্মের তুলে ধরা) যিশু খ্রিস্ট বা হযরত ঈসা মাসিহ (আ.)-এর আদর্শের সৈনিক ছিলাম আমি। বিশ্বের সব মানুষকে খ্রিস্টান বানিয়ে তাদের আত্মাকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতাম। পবিত্র বাইবেল পুরোপুরি না পড়েই এর বক্তব্যগুলোয় শতভাগ বিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু একদিন এ বইয়ের একটা বিষয় নজরে পড়ল যার অর্থ আমার কাছে পুরোপুরি অবোধগম্য মনে হয়েছে। ভাবলাম এখনও এ বিষয়টা বোঝার মত বয়স হয়ত আমার হয়নি। তাই সেটা দেখালাম একজন খ্রিস্টান পণ্ডিতকে। কিন্তু তিনিও আমার সন্দেহকে সঠিক বলেই স্বীকার করলেন। এভাবে চিন্তার যে জগত আমি গড়ে তুলেছিলাম তা ধ্বসে পড়ল।”
এরপর জ্যামিকা পুরো বাইবেল পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তিনি যতই পড়ছিলেন ততই প্রশ্ন বাড়ছিল তার মনে। তিনি এ সম্পর্কে বলেছেন, “নিজেকে প্রশ্ন করতাম, কিভাবে আল্লাহ একই সময়ে এক ও তিন ব্যক্তি হতে পারেন? একবার মনে হল, এটা সম্ভবত: খোদা বা প্রভুর সত্তাগত বিষয়, তাই তা আমার উপলব্ধির উর্ধ্বের বিষয়। কিন্তু অচেনা ও অপরিচিত প্রভুর এবাদত করতে আমার মন সায় দেয়নি। অন্যদিকে “নিকিয়া পরিষদ’ও আমাকে নাড়া দিয়েছিল প্রচণ্ডভাবে। এই পরিষদের সদস্যরা মাটির পৃথিবীর মানুষ হয়েও নিজেদেরকে ঈশ্বরের মাধ্যমে পরিচালিত বলে দাবি করত এবং তারা এটা ঠিক করত যে কোন্ কোন্ অংশগুলোকে বাইবেলে রাখতে হবে ও বদলে ফেলতে হবে কোন্ কোন্ অংশগুলোকে!”
বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ধর্ম ইসলাম অজ্ঞতার নিন্দা করে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও ঈমানের আলো ছড়িয়ে দেয়। পবিত্রতা ও সততার জন্য খ্যাত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র আলোকোজ্জ্বল অভিজ্ঞতাসহ ইসলামের এই নীতি-আদর্শ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ইসলামের চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গী মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই বলেই তা সার্বজনীনতা লাভ করেছে। এ কারণেই সামাজিক অঙ্গনসহ মানব জীবনের সব ক্ষেত্রেই ইসলামের রয়েছে মহত্তম অবদান।
মানব-প্রকৃতির ধর্ম বলেই ইসলাম সব সময়ই মানুষকে চিন্তা ও গবেষণা করতে উৎসাহ যোগায় যাতে সত্যকে অবিকৃত ও যথাযথ আঙ্গিকে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হওয়া কুরআন ও ইসলামের মধ্যে যে উদ্ভট, অবাস্তব ও অযৌক্তিক কিছুর স্থান নেই তা স্পস্ট করার জন্যই জ্ঞান চর্চা ও গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়েছে এই মহান ধর্ম।
ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে এ ধর্মকে নিজের বিবেক ও প্রকৃতির সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই দেখতে পেয়েছেন মার্কিন নও-মুসলিম মহিলা মিসেস “জ্যামিকা নিইল”। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “খ্রিস্ট ধর্মের মধ্যে এতসব অসঙ্গতি দেখার পরই স্রস্টার প্রতি বিশ্বাস হারাইনি। আমি শুধু এটাই বুঝতে পেরেছিলাম, আমি যে দিকে এগুতে চাচ্ছি খ্রিস্ট ধর্ম তার সঠিক পথ নয়, তাই বিশেষ কোনো ধর্মের প্রতি বিশ্বাস না রেখেই স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান ও গবেষণা শুরু করলাম। এসব গবেষণায় আমার অনেক সময় কেটেছে। ই-মেইলের মাধ্যমে অনেক ভাই-বোন আমাকে সহায়তা করতেন এবং আমার নানা প্রশ্নের জবাব দিতেন। তারা ইসলামের পথ ও প্রথা আমার কাছে তুলে ধরতেন। অবশেষে প্রকৃত সৌভাগ্যের পথ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত উপলব্ধি অর্জন করে ইসলামকেই ধর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছি।”
ইসলামে নারীর রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। এ ধর্ম মানবীয় দিক থেকে নারী ও পুরুষকে সমান মনে করে। কিন্তু নারী ও পুরুষের শারীরিক ও মানসিক পার্থক্যের আলোকে এ মহান ধর্ম তাদের দায়িত্ব এবং অধিকারের ন্যায়সঙ্গত সীমানা নির্ধারণ করেছেন। অন্য কথায় ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ হিসেবে নারীর ওপর পুরুষের এবং পুরুষের ওপর নারীর কোনো কর্তৃত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কেবল তাকওয়াই হল মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড।
সুরা হুজরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, “হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেজগার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।”
মার্কিন নও-মুসলিম মহিলা মিসেস “জ্যামিকা নিইল” নারী হিসেবে তার প্রকৃত মর্যাদা ও অবস্থান খুঁজে পেয়েছেন পবিত্র ইসলাম ধর্মে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “পশ্চিমা সমাজে নারীর অবস্থা ও নারী সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গী আমার কাছে কখনও পছন্দনীয় ছিল না। পাশ্চাত্যের জনগণের সাধারণ সংস্কৃতিতে নারীর কেবল যৌন বিষয়কেই গুরুত্ব দেয়া হয়। অথচ আমি বুঝতে পেরেছি যে, ইসলামে নারীর রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। ইসলাম মা হিসেবে নারীকে দেয় সর্বোচ্চ সম্মান এবং কেবল শারীরিক শক্তি ছাড়া সব ক্ষেত্রেই নারী ও পুরুষকে সমান মনে করে এই মহান ধর্ম। ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক মহিয়সী নারীর জীবনী দেখা যায় যারা স্বাবলম্বী ছিলেন। তাই এ ধর্ম আমার সম্মান অর্জনে সক্ষম হয়েছে, কারণ, এ ধর্মই নারী জাতিকে সম্মান করে।”
ইসলামের বিস্তারকে এমন ঢেউয়ের সাথে তুলনা করা যায় যা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে সূচিত হওয়া সত্ত্বেও ছড়িয়ে যায় চারদিকে এবং ক্রমেই এর পরিধি বাড়তেই থাকে। আজ আমরা দেখছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ইসলাম এখন এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা। অতীতে পশ্চিমারা ইসলামকে কেবলই কিছু নীতি-কথার ধর্ম এবং কখনও বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্ম বলে উল্লেখ করত। কিন্তু ইসলাম আজ এত ব্যাপকতা ও শক্তি অর্জন করেছে যে প্রাচ্যের ফরাসি চিন্তাবিদ ও ইসলাম-বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লা মান্দ বলছেন: “হারানো পথ ফিরে পাওয়ার জন্য পাশ্চাত্য ইসলামের মুখাপেক্ষী।” প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী সভ্যতা বিষয়ের অধ্যাপক লুই কার্ডোও বলেছেন, “বস্তুবাদী বা জড়বাদী পাশ্চাত্যে আধ্যাত্মিক শূন্যতার কারণে আধুনিক বিশ্ব এখন জড়বাদ ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে ভারসাম্যের চেষ্টা করছে। আর ইসলাম এই চাহিদা পুরণ করতে সক্ষম।”
সূত্রঃ পার্স টু ডে
এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমানের সুনির্দিষ্ট ছয়টি হক

এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমানের সুনির্দিষ্ট ছয়টি হক


ইসলাম যে সব হক বা অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো-এক মুসলমান ভাইয়ের ওপর অন্য মুসলমান ভাইয়ের হক বা অধিকার। পবিত্র কোরানে ইরশাদ হয়েছে,
“নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই-ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে।” [সুরা আল হুজুরাত : ১০]
ইসলামি ভ্রাতৃত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া একটি মহামূল্যবান নিয়ামত। মহাকবি আল্লামা শেখ সাদি [রহ.] তার কবিতায় গোটা মুসলিম জাতিকে একটি মানব শরীর বলেছেন। আমাদের সবার উচিত যে কোনো মূল্যে অপর মুসলমান ভাইয়ের হক বা অধিকার আদায় করার মাধ্যমে এই ভ্রাতৃত্ববোধের ফল্গুধারাকে অব্যাহত রাখার সর্বাÍক চেষ্টা করা। এক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমান ভাইয়ের সর্বপ্রথম হক হলো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার উদ্দেশ্যে তাকে ভালোবাসা।
হজরত আনাস [রা.] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল [সা.] বলেছেন, তিনটি গুণ যার মধ্যে রয়েছে, সে ইমানের স্বাদ অনুভব করবে।
১. আল্লাহ ও তার রাসুল তার কাছে গোটা সৃষ্টিজগৎ অপেক্ষা অধিক প্রিয় হওয়া।
২. মানুষকে ভালোবাসলে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা।
৩. কুফরিতে ফিরে যাওয়া তার কাছে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দনীয় হওয়া।
মুসলিম শরিফের একটি সহিহ হাদিসে এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমানের সুনির্দিষ্ট ছয়টি হকের আলোচনা এসেছে। হকগুলো হলো-
১. তুমি যখন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তাকে সালাম দেবে।
২. সে যখন তোমাকে দাওয়াত করবে তখন তা গ্রহণ করবে।
৩. সে যখন তোমার কাছে পরামর্শ চাইবে, তখন তুমি তাকে পরামর্শ প্রদান করবে।
৪. যখন সে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলবে, তখন তুমি ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে।
৫. যখন সে অসুস্থ হবে, তখন তাকে দেখতে যাবে।
৬. যখন সে মারা যাবে, তখন তার জানাজা ও দাফন-কাফনে অংশগ্রহণ করবে।
এক মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের আরেকটি হক হলো, তার সম্পর্কে মনে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ পুষে না রাখা। কারণ মুমিন হবে পরিষ্কার মনের অধিকারী। তার অন্তর হবে অনাবিল-শুদ্ধ। তার হৃদয় হবে কোমল ও দয়ার্দ্র। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে অপর মুসলিম ভাইয়ের হক বা অধিকারগুলোকে যথাযথভাবে আদায় করার মাধ্যমে ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করার তওফিক দান করুন। আমিন।
এবার ফেসবুক ও ইউটিউবে নিষিদ্ধ হচ্ছে জাকির নায়েকের বক্তব্য

এবার ফেসবুক ও ইউটিউবে নিষিদ্ধ হচ্ছে জাকির নায়েকের বক্তব্য


বাংলাদেশে মুম্বাইভিত্তিক পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারির পর এবার অনলাইন, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ভারতের বিতর্কিত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েকের বক্তব্য বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।